DSCF3957.jpg

প্রি-কন্সট্রাকশন প্ল্যানিং 

প্রি কন্সট্রাকশন প্ল্যানিং বলতে বোঝানো হয় কন্সট্রাকশন শুরু করার আগের সব আয়োজনকে। এর ভিতরে আছে ড্রইনগুলো সব গুছিয়ে এবং বুঝে নেয়া, কোন ড্রইং বাদ থাকলে তার রিকুইজিশান দেয়া। সাইটের ডিমার্কেশান, লেয়াউট দেয়া থেকে শুরু করে কন্ট্র্যাকটরের ইন্টারভিউ নেয়া পর্যন্ত সবকিছুই প্রি-কন্সট্রাকশন প্ল্যানিং এর অন্তর্ভুক্ত। সাধারণত তিন সপ্তাহ পর্যন্ত সময় এইকাজে ব্যয় করা হয়। 

বিস্তারিত 

প্রি-কন্সট্রাকশন প্রজেক্টের শুরুর আগের একটা ধাপ। এই স্টেজে মূলত ক্লায়েন্ট এবং কন্ট্র্যাক্টরের মাঝে বিভিন্ন রকম আলাপ-আলোচনা, তার দায়িত্ব এবং কি কি কাজ হবে, সেটা নিয়ে কাজ হয়ে থাকে। নিচে এই নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা এবং একটি চেকলিস্ট দেয়া হবে। আসুন তাহলে দেখি প্রি-কন্সট্রাকশন প্ল্যানিং এ কি কি কাজ হয়ে থাকে 

১। প্রি-কন্সট্রাকশন মিটিংঃ এটা মূলত ক্লায়েন্ট এবং কন্ট্র্যাকটরের মাঝে প্রথম মিটিং। এখানে ক্লায়েন্ট তার চাওয়া-পাওয়া এবং স্বপ্নের কথা কন্স্ট্রাকশন টীমকে বিস্তারিতভাবে বলবেন। কোয়ালিটি কেমন চাচ্ছেন সেই সম্পর্কে ধারণা দিবেন, কি কি করা যাবে, না-যাবে তা বলবেন এবং সর্বোপরি কি কি ধরণের সমস্যা হতে পারে যা তিনি এড়াতে চান, সেই সম্পর্কে বলবেন। 

আর অন্যদিকে কন্ট্র্যাকটর (মূলত সিভিল কন্ট্র্যাকটর) তার এই বর্ণনা থেকে প্রজেক্ট এর স্কোপ সম্পর্কে ধারণা পাবেন, কত সময় লাগতে পারে, কত খরচ হতে পারে এবং প্রজেক্টটা আদৌ তার পক্ষে করা সম্ভব কিনা, তা বুঝে নিবেন এবং মিটিং এর শেষে এ সম্পর্কে তার মতামত দিবেন। এই মিটিং একাধিক কন্ট্র্যাকটরের সাথে হতে পারে এবং মিটিংগুলো শেষ হওয়ার পরে কন্ট্র্যাকটরদের একটা লিস্ট তৈরী হয়ে যাবে যারা এই কাজটা করতে সক্ষম এবং মোটামুটিভাবে কত টাকার ভিতরে শেষ করা সম্ভব। 

২। আর্কিটেকচারাল এবং ইঞ্জিনিয়ারিং ড্রইংগুলো চেক করাঃ  আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল সবগুলো ড্রইং চেক করা, কোন সমস্যা থাকলে সেটা জানানো। বিশেষভাবে ইলেক্ট্রিক্যাল, প্লাম্বিং এবং মেকানিক্যাল ইস্যুগুলো সিভিল কন্ট্র্যাকটর চেক করতে চান না, যেটা নিয়ে পরবর্তীতে সমস্যায় পড়তে হয়। আর এই বিশেষ জায়গায় কন্ট্র্যাকটর লে-ম্যান বা অশিক্ষিত হলে বিষয়টা আরো খারাপের দিকে যেতে পারে।

৩। কস্ট এস্টিমেশনঃ সাধারণত আর্কিটেক্টরা তাদের কন্সাল্টেন্সির সাথে কস্ট এস্টিমেশন দিয়ে থাকেন। কিন্তু অনেকেই দেন না। তাই এই স্টেজে মালামাল এবং লেবার এই দুই বিষয়ের খরচ সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার জন্য কস্ট এস্টিমেশনের করা প্রয়োজন হতে পারে। আর যদি করা থাকে তাহলে সেটা নিয়ে আলোচনা করা হয়, খরচ কমানোর কোন প্রয়োজন হলে বা বাজেট নিয়ে কোন সমস্যা থাকলে এখনই সেটা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করে ফেলতে হয় 

৪। দায়িত্ব ভাগাভাগিঃ এই স্টেজের আরেকটা কাজ হল কাজগুলো ভাগ করে নেয়া। এর মাঝে আছে 

  • কে কোন কাজের দায়িত্ব নিবে (কোন কাজ কন্ট্র্যাক্টর করবে আর কোন কাজ ক্লায়েন্ট) 

  • কোন জিনিস কে সাপ্লাই দিবে ( কোন জিনিসগুলো কন্ট্র্যাক্টর সাপ্লাই দিবে আর কোন জিনিসগুলো ক্লায়েন্ট) 

  • কন্সট্রাকশনের কাজটা কে, কিভাবে বুঝে নিবে ( কাজ ক্লায়েন্ট বা আর্কিটেক্ট/ইঞ্জিনিয়ার কে বুঝে নিবে এবং কাজ শেষ হওয়ার সংজ্ঞা নির্ধারণ করতে হবে। ) 
     

৫। ইনিশিয়াল সিডিউল তৈরী করাঃ প্রাথমিক একটা সময়সীমা নির্ধারণ করতে হবে। মোটা দাগে কত মাসে কাজটা শেষ করা সম্ভব তার বাস্তবসম্মত সীমা নির্ধারণ করতে হবে। যেমন দশ কাঠার উপরে দশ তলা বিল্ডিং তৈরীর কাজ যদি হয়ে থাকে তাহলে পাইলিং করতে কত মাস লাগতে পারে, পাইল ক্যাপ থেকে গ্রাউন্ড ফ্লোর করতে কত সময় লাগবে এবং প্রতি ফ্লোর শেষ করতে কত সময় লাগতে পারে তা নির্ধারণ করা হয়। সেই সাথে দেয়াল, প্লাস্টার, ইলেক্ট্রিক্যাল, প্লাম্বিং, টাইলস, পেইন্ট, ফিটিং সহ সবকিছুর জন্য একটা সময়সীমা নির্ধারণ করে মোট কত সময় লাগতে পারে তা ডিফাইন করা হয় 

৫। গাইডলাইন তৈরী করাঃ কন্ট্র্যাকটর এখানে ক্লায়েন্টকে বোঝাবে প্রত্যেকটা ধাপে সে কিভাবে কাজগুলো করবে একদম শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত। কাজ করার সময় কি কি সমস্যা তৈরী হতে পারে আর সেটার সমাধান নিয়ে আলোচনা হবে। কোথাও যদি আইনগত সমস্যা থেকে থাকে বা কোন প্রকার ভায়োলেশান হওয়ার সম্ভাবনা থাকে সেটা সম্পর্কে আগে থেকে জানাবে। এই গাইডলাইন যে যত ভালোভাবে দিতে পারবে, তাকেই কাজটা দেয়ার সম্ভাবনা বেশি কারণ ক্লায়েন্টের কনফিডেন্স এবং বিশ্বাস তার উপরে সবচেয়ে পাকাপোক্ত হয়। 

প্রি কন্সট্রাকশন চেকলিস্ট 

  • প্রজেক্ট নিয়ে আলোচনা 

  • ডিজাইন নিয়ে আলোচনা এবং প্ল্যানিং করা 

  • খরচ নিয়ে আলাপ এবং খরচ কমানোর উপায়গুলো বের করা 

  • প্রজেক্টের স্কোপগুলো ডিফাইন করা 

  • সম্ভাব্য সমস্যা গুলো যাচাই বাছাই করা এবং সমাধান নিয়ে আলোচনা করা 

  • ইঞ্জিনিয়ারিং এর দিকগুলোতে কোন পরিবর্তন বা মূল্যায়নের সুযো থাকলে তা করে ফেলা

  • সাইট রেডি করা, লেয়াউট দিয়ে মার্কিং করা। রোড লেভেল, প্লিন্থ লেভেল ফাইনাল করা। 

  • কাজ শুরু করার জন্য কোন ইউটিলিটি যেমন পানি বিদ্যুতের দরকার হলে আয়োজন করা 

  • কি কি মেশিনারিজ দরকার হতে পারে তা ঠিক করা