যে কারণে ঢাকা ডিজাইনার অন্যান্য অনেকের চেয়ে আলাদা

ঢাকা ডিজাইনারের সাথে কাজ কেন করবো ? - এই প্রশ্নটা মাথায় আসাটা খুবই স্বাভাবিক একটি বিষয়। সারাজীবণের স্বপ্ন এবং সঞ্চয় যার হাতে তুলে দিবেন, তিনি তার মূল্যায়ন করতে পারবেন তো? এই বিষয়ে কিছুটা আলোকপাত করার জন্য এই আর্টিকেল, অন্যান্যদের চেয়ে কেন আমরা কিছুটা আলাদা


১। ঢাকা ডিজাইনারের শুরুটা হয়েছিল ইন্ট্যারন্যাশনাল মার্কেটে কাজ করার মাধ্যমেঃ অন্যান্য যেকোন ফার্মের সাথে আমাদের প্রথম পার্থক্যটা এখানেই। আমরা শুরু থেকেই দেশের বাইরের বিভিন্ন দেশের জন্য বাড়ির ডিজাইন এবং ড্রইং করেছি । একটা সময় ছিল, আমরা ভেবেছিলাম দেশীয় কাজই হয়তো আর করা হবেনা, বা দরকার নেই। এমনকি আমাদের শুরুর প্রথম চার বছর দেশি কোন কাজ ই করা হয়নি। পরবর্তীতে আমরা বুঝেছি শুধুমাত্র ডিজাইন করে এবং মাঠে কাজ না করলে অভিজ্ঞতার দিক থেকে বিশাল পরিমাণ ঘাটতি ঠেকে যায়। সেই থেকে দেশি বিদেশি দুই ধরণের কাজেই আমরা সমানভাবে মনোনিবেশ করেছি এবং সমান-তালে এগিয়ে যাচ্ছি। তাই আমাদের সাথে কাজ করলে আপনি দেশি-বিদেশি দুই ধরণের স্টাইল ই দেখতে পাবেন আর সেই সাথে নানান রকম ভাবে আপনার বাড়িটি ডিজাইন করাতে পারবেন


২। ঘরোয়া পরিবেশ এবং ক্যাজুয়াল আলোচনাঃ আমাদের অফিস অন্যান্য কর্পোরেট অফিসের মত একদম না। খুব সাদামাটা রেসিডেন্সিয়াল এলাকায় আমাদের অফিস এবং সাজানো গোছানোর ধরণটাও ঘরোয়া। তাছাড়া অফিসে যারা কাজ করেন, তাদের সাথে মিটিং করা আর গল্প করার মাঝে খুব একটা পার্থক্য নেই। আমাদের ইচ্ছা এই পরিবেশটাকে একেবারে শেষদিন পর্যন্ত ধরে রাখা । অফিস-অফিস ভাব থেকে আমরা সবসময় দূরে থাকতে চাই । কাজ বা মিটিং ছাড়া শুধু এক কাপ কফির জন্য আপনি চলে আসতে পারেন অফিসে


৩। টাকাপয়সাকে আমরা ট্যাবু মনে করিনা। শুরু থেকেই এটা নিয়ে আলোচনা হয় এবং ট্রান্সপারেন্সি রাখা হয় । ডিজাইনের জন্য কত টাকা নেয়া হবে, প্রজেক্ট চলাকালীন কত টাকা নেয়া হবে তা আমরা শুরুতেই জানিয়ে দিই। এছাড়া কাজ বা ডিজাইন শুরু করার জন্য আডভান্স লাগবে কি লাগবেনা, অথবা কবে আপনাকে কত টাকা দিতে হবে সেটা নিয়ে কখনোই অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরী হতে দিইনা আমরা।


৪। ডিজাইন করার সাথে সাথে সেটা তৈরী করতে কত টাকা লাগতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা করা হয় । যেই ডিজাইনটা আমরা করলাম বা আপনি পছন্দ করলেন, সেটা বানাতে কিরকম খরচা-পাতি হতে পারে, তা নিয়ে আমরা সব-সময়ই আলোচনা করতে থাকি যেন কাজ শুরু করার পরে আপনাকে ভয়ে থাকতে না হয় যে কত খরচ হয়ে গেল। যদিওবা গত তিন বছর ধরে বা করোনা চলাকালীন এবং করোনা পরবর্তীকালিন জিনিসপত্রের দাম এত বেশি ওঠানামা করেছে, আমরা নিজেরাই বারবার আটকে গেছি। তবে বর্তমানে বাজার যথেষ্ট স্থিতিশীল আছে এবং এস্টিমেটগুলো আগের চেয়ে প্রিসাইসলি দেয়া যাচ্ছে।


৫। সবসময় থ্রিডি ভিজুয়ালাইজেশান করা হয়। শুধু ড্রইং নিয়ে কাজ করা হয়না । একেবারে প্রথম থেকেই থ্রিডি ভিজুয়ালাইজেশান করে করে কাজগুলো করা হয়। অন্যান্য অফিসে এই থ্রিডি করার বিষয়টাকে আলাদা সার্ভিস হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু আমরা সবসময়ই থ্রিডি করি। স্কেচাপে স্কিম্যাটিক থ্রিডি থেকে শুরু করে ডিজাইন শেষ হওয়ার পরে রিয়েলিস্টিক থ্রিডি মডেলিং এবং রেন্ডারিং করা হয়। কখনোই এমনটা হবেনা যে, আমরা যা ডিজাইন করেছি তা বাস্তবে কেমন লাগবে তা-আপনি বুঝতে পারছেন না।


৬। খুব অল্প কিছু ফার্মের মাঝে ঢাকা ডিজাইনার BIM নিয়ে কাজ করে । বিল্ডিং ইনফরমেশান মডেলিং বা বিম- বাড়ির কন্সট্রাকশনের কাজগুলোকে নতুনভাবে ভাবতে শেখাচ্ছে আমাদের। Revit Architecture এমন একটি সফটওয়্যার যেটি দিয়ে বাড়ি নির্মাণের অনেক আগেই কোথায় কি হবে, কতগুলো দরজা জানালা টাইলস লাগবে তা আগে থেকেই হিসেব করে ফেলা যায়। তাই কাজ চলাকালীন নতুন করে কোন সমস্যা তৈরী হওয়ার সুযোগ খুব কম থাকে


৭। AGILE- মেথডে প্রজেক্টের কাজগুলো করা হয় । যেকোন প্রজেক্ট কিভাবে করা হবে তার বিভিন্ন রকক সিস্টেম বা ফ্রেমওয়ার্ক আছে। কখনো এমন হয় যে, আগে পুরোপুরিভাবে ডিজাইনটা শেষ করা হয়, তারপর এস্টিমেট হয়, আগ্রিমেন্ট হয়ে এবং তারপরে কাজ শুরু হয়। এটার মূল সমস্যা হচ্ছে কাজ শুরু হতে অনেক অনেক সময় লাগে এবং প্রায়ই আপনার ধৈর্য্যচ্যুতি হওয়ার অবস্থা তৈরী হয়। যেহেতু ডিজাইন শেষ করা অনেক লম্বা বিষয় এবং এর বড় একটা অংশে আপনাকে যুক্ত রাখার কোন প্রয়োজনই নেই। তাই বর্তমানে এজাইল- মেথডে আমরা আমাদের কাজগুলো করে থাকি । কাজগুলোকে ছোট ছোট ধাপে ভাগ করা হয় এবং একটা ধাপের কাজ শেষ হওয়ার সাথে সাথেই সেটা তৈরীর কাজে মন দেয়া যায়। যদিও-বা আমরা এই বিষয়ে ভালোই ফ্লেক্সিবল। এখনো অনেকেই, বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশি এবং বয়ষ্ক বিদেশি ক্লায়েন্টরা পুরোপুরিভাবে একটা কাজ শেষ না করে পরের কাজে হাত দিতে চান না ।


5 views0 comments