প্ল্যান পাশ বলতে কি বোঝায়? বাড়ির প্ল্যান কিভাবে পাশ করাবেন?

বাড়ির প্ল্যান পাশ করাতে হবে - এই কথাটা আমরা হরহামেশা শুনে থাকি। আপনার কোন আত্মীয় হয়ত বাড়ি বানানোর স্টেপ নিচ্ছেন, নির্ঘাত শুনবেন, “বাড়ির প্ল্যানটা পাশ হলেই কাজে হাত দেব।” কিংবা কেউ হয়ত বাড়ি বানাবেন বলে শুনেছেন বেশ আগে কিন্তু এখনো কাজ শুরু করেন নি। জিজ্ঞেস করলে উত্তর পাবেন, “আরে ভাই, প্ল্যান ই তো পাশ হল না! কাজ শুরু করব কিভাবে!” এই বাড়ির প্ল্যান পাশ করানো ব্যাপারটা আসলে কি? কিভাবে করে? কি এমন বিরাট ব্যাপার যে পাশ করানো এত বড় ইস্যু! আসলে এটা মূলত কিছু গাইডলাইন বা নিয়ম, যেগুলো মেনে প্রথমে বাড়ির ড্রয়িং বা ডিজাইন করতে হয়, এরপর সেটা অথোরিটি বা কর্তৃপক্ষকে দেয়া হয়। তারা সেটাকে দেখে শুনে সঠিক বলে মনোনীত করলে আপনার প্ল্যান পাশ হয়ে গেল; আবার পরিবর্তনের জন্য ফেরত পাঠালে আবার ঠিক করে জমা দিতে হয়। এই চক্র চলে প্ল্যান পাশ না হওয়া পর্যন্ত। সব নিয়ম-কানুন ঠিক থাকলে কর্তৃপক্ষ ড্রয়িং সঠিক বলে সনদ প্রদান করে। এর অর্থ কর্তৃপক্ষ নির্মাণ কাজ শুরুর জন্য অনুমোদন দিচ্ছে। এই পুরো প্রসেসটার নাম ই প্ল্যান পাশ বা বাড়ির ড্রয়িং এর অনুমোদন।


কক্সবাজারে ভবণ নির্মানের নিয়মাবলি

এবার আসি অনুমোদন প্রক্রিয়াটা কেমন বা অনুমোদনের জন্য আসলে কোন কাজগুলো করতে হয়।


১। অনুমোদন কর্তৃপক্ষ খুঁজে বের করা


প্রথম কাজ হচ্ছে এটা জানা যে এই প্ল্যান যে পাশ করবে, সেই কর্তৃপক্ষ আসলে কারা। এটা আসলে নির্ভর করে বাড়িটা কি ধরণের এবং সেটা কোথায় হচ্ছে, তার উপর। আপনি বাড়ি গ্রামে বানাতে চাইলে এই কর্তৃপক্ষ হচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদ। বাড়ি শহরে হলে উপজেলা বা সিটি কর্পোরেশন, ক্যান্টনমেন্টের ভিতরে হলে ক্যান্ট বোর্ড। এভাবে বাড়ি তৈরির স্থানভেদে বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরণের কর্তৃপক্ষ বাড়ি তৈরির অনুমোদন দেয়ার এখতিয়ার রাখে।


ঢাকার জন্য এই কর্তৃপক্ষ হচ্ছে রাজউক (রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ)। ঠিক একইভাবে চট্টগ্রামের জন্য চউক, রাজশাহীর জন্য RDA (Rajshahi Development Authority), কক্সবাজারের জন্য CoDA, খুলনার জন্য KDA, এরকম।


গ্রামের বাজারেও যদি কোন বিল্ডিং ৭ তলার উপরে হয়, তাহলে সেটার অনুমোদনের জন্য আপনাকে উপজেলা বা জেলা পরিষদে যেতে হবে। আবার যদি বিল্ডিং ১০ তলার উপরে হয়, তাহলে ঢাকায় পূর্ত ভবনে অর্থাৎ গণপূর্ত অধিদপ্তরে এসে অনুমোদন নিতে হতে পারে। তাই আগেই জেনে নিন আপনার বাড়ি অনুমোদনের অথরিটি হবে কে। এজন্য আপনার এলাকার যে সকল আর্কিটেক্ট বা সিভিল ইঞ্জিনিয়ার প্র্যাকটিস করছেন, তাঁদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।

২। স্থপতি এবং প্রকৌশলী নির্বাচন

আপনার কর্তৃপক্ষ কতটুকু অভিজ্ঞ বা যোগ্যতা সম্পন্ন পেশাজীবী চাচ্ছেন, সেটার উপর ভিত্তি করে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার জন্য কনসালটেন্ট নিয়োগ দিন। আপনার সাধ এবং সাধ্যের ভিতরে ইঞ্জিনিয়ার, ডিপ্লোমা আর্কিটেক্ট বা আর্কিটেক্ট দিয়ে বাড়ির ডিজাইন করাতে পারবেন। অভিজ্ঞতা এবং সুনামের উপর ভিত্তি করে ইঞ্জিনিয়ার বা আর্কিটেক্টদের ফি বিভিন্ন রকম হয়। এঁদের মধ্য থেকে আপনার বাজেটের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ একজন আর্কিটেক্ট বা ইঞ্জিনিয়ার আপনাকে খুঁজে বের করতে হবে। আর্কিটেক্ট খুঁজে বের করার বিভিন্ন উপায় আছে, সেগুলো অনুসরণ করুন। আপনার পরিচিত মানুষজন বাড়ি বানানোর সময় যাদের কনসালটেন্ট হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন, তাঁদের সাথে রেফারেন্সের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে পারেন। চাইলে গুগল করে কিংবা সোশ্যাল মিডিয়া থেকেও অনেককে খুঁজে পাবেন। এঁদের সাথে যোগাযোগ করুন, যার কাজ আপনার ভালো লাগে এবং আপনার বাজেটে কুলায়, তাঁর সাথে চুক্তিতে আসুন।

৩। কাগজপত্র রেডি করুনঃ

এটি মূলত জমি সংক্রান্ত সব ধরণের কাগজপত্র তৈরী করা এবং যেই বাড়ি বানাতে যাচ্ছেন, তার স্বাক্ষরকৃত নকশার কথা বলা হচ্ছে। যেমন রাজউকের জন্য নিচের জিনিসগুলো লাগে: 👉 দলিল 👉 খাজনার রশিদ 👉 ডিসিআর 👉 নামজারি এবং জমা ভাগের প্রস্তাবপত্র 👉 নামজারি খতিয়ান 👉 ঢাকা সিটি জরিপ 👉 জাতীয় পরিচয়পত্র 👉 পাসপোর্ট সাইজ ছবি ১ কপি 👉 ডিজিটাল সার্ভে 👉 রাজউক ড্রইং ( রাজউক ড্রইং এর জন্যও বিভিন্ন জিনিসের তালিকা আছে) আপনার বাড়ির অনুমোদন যে কর্তৃপক্ষ দেবে, তাদের চাহিদা অনুযায়ী যা যা দরকার, সেগুলো আপনাকে যোগাড় করতে হবে।

৪। ফর্ম ফিলাপ করুন এবং জমা দিন

প্ল্যান পাশের অনুমোদনের জন্য সাধারণত অনেকগুলো ধাপ থাকে। নিচে রাজউকের জন্য অনুমোদনের ধাপগুলো দেয়া হল:


👉ল্যান্ড ক্লিয়ারেন্স আবেদন এবং অনুমোদন


👉 বাড়ি নির্মাণের জন্য আবেদন এবং অনুমোদন


এছাড়াও ক্ষেত্র-বিশেষে আপনাকে


👉 নির্মাণ চলাকালীন বিভিন্ন আবেদন এবং প্রত্যয়ন পত্র জমা দেয়া লাগতে পারে

👉 অকুপেন্সি সার্টিফিকেট এর জন্য আবেদন এবং অনুমোদন নেয়া লাগতে পারে

এখানে ধাপ মাত্র তিনটি হলেও কখনো কখনো এই বিষয়গুলো বেশ জটিল হয়ে উঠতে পারে। যেহেতু বেশিরভাগ মানুষ ই জীবনে বাড়ি একবার ই বানান, তাই কেউ ই বিষয়গুলো বুঝে উঠতে পারেন না বা বাড়ি বানানোর আগে সেটার প্রয়োজন পড়ে না। তাই কিভাবে এই প্ল্যান পাশের কাজগুলো করা যায়, সেটা নিয়ে ঝামেলায় পড়ে যান। তবে বেশিরভাগ সময়ই কিন্তু কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইটে বা তাদের অফিসের নোটিশ বোর্ডের আশেপাশে এই ইন্সট্রাকশনগুলো দেয়া থাকে। রাজউকের প্ল্যান পাশের সব কাজ এখন অনলাইনেই করা যায়। এজন্য আপনাকে রাজউকের ওয়েবসাইট এ গিয়ে একাউন্ট খুলতে হবে। এরপর নির্দেশনা অনুযায়ী যা যা লাগে সেগুলো দিয়ে প্রসেস শেষ করতে হবে। বিষয়টা অত কঠিন কিছু না।

এখন প্রশ্ন আসতে পারে, অনলাইনে সব করা গেলেও ফি কিভাবে দেব? আবেদনপত্র জমা দেয়া ও অনুমোদনের জন্য কতৃপক্ষভেদে বিভিন্ন রকম ফি থাকে। আপনার ক্যাটাগরি অনুযায়ী আপনাকে ফি দিতে হবে।



আপনার বাড়িটা আপনার জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেটা আমরা জানি। আর বাড়ি বানানোর প্রতিটা স্টেপ যেন আপনার কাছে পরিষ্কার থাকে, সেটাই আমরা চাচ্ছি। আর বাড়ি বানানো শুরু করারও আগের স্টেপ হচ্ছে বাড়ির প্ল্যান পাশ করানো। মানুষ সাধারণত সারা জীবনের সঞ্চয় দিয়ে একটা বাড়ি বানায়, তাই সবকিছু নিয়ে একটু টেনশন করা খুবই স্বাভাবিক। তবে আপনি যদি আগে থেকেই সব জেনে এরপর কাজ শুরু করেন, অযথা দুশ্চিন্তা আপনাকে একদমই করতে হবে না।



এরপর ও যে কোন প্রয়োজনে বা কনফিউশন দূর করতে প্রফেশনালদের সাহায্য নিতে পারেন। ঢাকা ডিজাইনারের সাথে এপয়েন্টমেন্ট ঠিক করতে এই লিঙ্কে মেসেজ দিতে পারেন অথবা সরাসরি +8801701357825 এ কল করে এপয়েন্টমেন্ট বুক করতে পারেন।




15 views0 comments