হাসি এবং চিনি

সুইটেন্ড বেভারেজ অথবা চিনিযুক্ত পানীয়

চিনিযুক্ত পানীয় হল এমন একটি জিনিস যা আমরা প্রায় প্রত্যেকেই প্রতিদিন পান করছি। কিন্তু সত্যটা হচ্ছে এই পানীয় আমাদের ডেন্টাল হেলথ এর জন্য বড় ধরনের ঝুঁকির কারণ। আমাদের মুখের লালায় রয়েছে বিভিন্ন রকম ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া, যাদের খাবার হলো এই চিনি। চিনি থেকেই তারা শক্তি পায়, এবং এই শক্তি তৈরির বাই প্রডাক্ট হল এসিড। যে এসিড দাঁতের উপরের প্রটেক্টিভ লেয়ার, এনামেলকে নষ্ট করে ফেলে। শুরু হয় দাঁত শিরশির করা এবং ধীরে ধীরে ক্যাভিটি।



এসব পানীয়র মধ্যে কিছু পানীয় রয়েছে যেগুলোর ক্ষতিকর দিকগুলো আমরা মোটামুটি জানি।

কিন্তু দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত কিছু পানীয় রয়েছে যাদের বিজ্ঞাপনে স্বাস্থ্যকর বলে প্রচার করা হয়, কিন্তু আদতে সেগুলোও রয়েছে ক্ষতিকর পানীয়ের তালিকাতেই। দুঃখজনক হলেও সত্য, বেশিরভাগ মানুষই ন্যাচারাল এবং হেলদি ড্রিংক মনে করেই এগুলো খেয়ে থাকে। এরকম একটি উদাহরণ হচ্ছে ফ্রুট জুস। এক গ্লাস অ্যাপল জুস এ রয়েছে এক গ্লাস কোক বা পেপসির সমপরিমাণ চিনি। অথচ আমরা মনে করে থাকি যে, হয়তো এক গ্লাস কোলার পরিবর্তে অ্যাপল জুস বেশি স্বাস্থ্যকর। আমেরিকান ডেন্টাল অ্যাসোসিয়েশান এর মতে শুগার অথবা কার্বোহাইড্রেট, যেটাকে আমরা চিনি বলছি, সেটার পরিমাণ আমাদের দৈনন্দিন ক্যালরির ১০% এর বেশি হওয়া উচিত নয়। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মহিলার জন্য এই পরিমাণ হল, ১০-১৫ চা-চামচ প্রতিদিন। আর পুরুষের জন্য ১২.৫- ১৮.৭৫ চা-চামচ। এক্ষেত্রে শুধুমাত্র এক গ্লাস অ্যাপল জুস ই আপনার সারাদিন এর কার্বোহাইড্রেট এর লিমিট ছাড়িয়ে যেতে পারে।


খাদ্যতালিকা থেকে চিনিযুক্ত পানীয় বাদ দিয়ে দেয়াটাই সবচেয়ে ভাল সিদ্ধান্ত। তবে আগের চেয়ে কম পরিমাণ গ্রহণ করা কিংবা চিনিযুক্ত পানীয়ের পরিবর্তে অপেক্ষাকৃত স্বাস্থ্যকর অন্য কোন পানীয় শুরু করাটাও সঠিক সিদ্ধান্তের দিকে এক ধাপ এগিয়ে যাওয়া। তুলনামূলক ভাল বা নিরাপদ কি কি পানীয় আপনি শুরু করতে পারেন চলুন দেখে নেয়া যাক।

চিনিযুক্ত ক্ষতিকর পানীয়

নিরাপদ/ অপেক্ষাকৃত নিরাপদ পানীয়

১। কোলা

১। পানি

২। এনার্জি ড্রিংক্স

২। চিনি ছাড়া চা

৩। চকোলেট মিল্ক বা শেইক

৩। স্কিমড মিল্ক

৪। স্মুদি

৪। কার্বোনেটেড পানি

৫। ব্লেন্ডেড ফ্রুট বা ফ্রুট জুস

৫। পানি মিশিয়ে তৈরি করা ফ্রুট জুস


- ডানদিকের কলামে দেয়া পানীয়গুলোতে চিনির পরিমাণ শূন্য অথবা একদম কম। এগুলোতে অভ্যস্ত হওয়ার মানে হলো আপনি আপনার মুখের ব্যাকটেরিয়াগুলোকে এসিড তৈরির কোন সুযোগ-ই দিচ্ছেন না। ফলে আপনার দাঁত থাকছে সুরক্ষিত।

- অন্যদিকে কিছু পানীয় আছে যেগুলো দাঁতের জন্য উপকারী। যেমন ফ্লুরাইড মিশ্রিত পানি, দুধ। যদি আপনি আপনার সকালের সুইটেন্ড চা বা কফি অথবা ফ্রুটজুসের অভ্যাসটি একদমই বদলাতে না পারেন, তাহলে ছোট ছোট কিছু পদক্ষেপ আছে যেগুলো আপনার দাঁতকে সুরক্ষিত রাখতে উপকারী ভূমিকা পালন করতে পারেন। যেমন;

- পান করুন চুমুক দিয়ে খাবেন না। ধীরে ধীরে না খেয়ে দ্রুত খেয়ে ফেলুন

- ফ্লুরাইড আপনার দাঁতের বন্ধু। আমাদের দেশের পানিতে যদিও ফ্লুরাইড থাকেনা, ফ্লুরাইড টুথপেস্ট ব্যবহার করুন। ফ্লুরাইড দাঁতকে মজবুত করতে সাহায্য করে।

- দিনে অন্তত দুইবার ব্রাশ করুন। একবার ফ্লসিং করুন। ৮ বছরের নিচের বাচ্চাদের ব্রাশিং বা ফ্লসিং এ সহায়তা করুন। এছাড়া দাঁতে কোন সমস্যা দেখা দিলে অবহেলা না করে অবশ্যই ডেন্টিস্ট এর শরণাপন্ন হোন।

28 views0 comments