কন্সট্রাকশন এবং বাজেট ফোকাসড ডিজাইন

কেন? 

যে কোন কন্সট্রাকশনের কাজই অনেক স্ট্রেস-ফুল। বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে স্ট্রেসটা আরও একটু বেশি। কি করতে হবে আর হবে না, সেটা বুঝতে না পারাটা একটা বড় সমস্যা। অভিজ্ঞতার অভাব একটা বড় সমস্যা। আমরা একের পর এক কন্সট্রাকশন শেষ করার পরেও টুকটাক ভুল করে ফেলি, নতুন কিছু শিখি।

 

আর আপনি যদি জীবনের প্রথম বাড়ি বানাতে আসেন; সেটা যে আরও অনেক জটিল হবে সেই ব্যাপারে নিশ্চিত থাকতে পারেন। প্রতিদিন অনেক অনেক ভেন্ডরের সাথে কথা বলতে হবে, তাঁদের পেমেন্ট করতে হবে, ম্যাসেজের রিপ্লাই এবং ম্যানেজ করে চলতে হবে। এই সেক্টরের বড় একটা অংশ আসলে একদল অসৎ, আনকমিটেড এবং অশিক্ষিত লোকজন নিয়ন্ত্রণ করে।

 

ফলাফল - 
 

👉🏽 সময়মত কাজ শেষ না হওয়া 
👉🏽 খরচ বেড়ে যাওয়া এবং কখনো সেটা চিন্তাতীত-ভাবে বেড়ে যাওয়া 
👉🏽 বাড়ির কোয়ালিটি খারাপ হওয়া


ঢাকা ডিজাইনার এই তিনটি বিষয়কে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে এবং ডিজাইন অনুযায়ী কাজ ডেলিভারি করে। 
আর সবচেয়ে ভালো খবর হচ্ছে, আপনার দরকারে আমাদের বেশি খুঁজতেও হবে না। যে কোন সমস্যায় একটা ফোন নাম্বারে যোগাযোগ করলেই আমাদের খুঁজে পাবেন।

 

ঢাকা ডিজাইনারের শুরুটা কিভাবে?

ঢাকা ডিজাইনার কিভাবে আজকের অবস্থায় আসলো, আমরা নিজেরাও আসলে জানি না। ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে oDesk এবং Elance নামে দুটো ফ্রিল্যান্স প্লাটফর্মে ডিজাইনিং আউট-সোর্স কাজ শুরু করার মধ্য দিয়ে Dhaka Designer এর যাত্রা শুরু করে। প্রথম তিন বছর আমরা শুধুমাত্র দেশের বাইরের কাজই করছিলাম। আর অফিস? আমাদের অফিস ছিল বুয়েটের ডক্টর এম এ রশীদ হলের ৩০০৬ নম্বর রুম। অফিসের ছিল শুধুই ৪টা কম্পিউটার। 

২০১৪ সালে প্রথম ফর্মাল অফিস এবং কো-ফাউন্ডার নিয়ে ঢাকার শ্যামলীতে কাজ শুরু করি আমরা। সেই থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন ছোট-বড় দেশি ও বিদেশি কাজ আমরা করেছি। টিম মেম্বার ২জন থেকে ততদিনে হয়েছে ২০ জন। অফিসের সাইজও ১২০ স্কয়াফিট থেকে হল ২৪০০ স্কয়ারফিট।
 
২০১৬ সালে হসপিটাল ডিজাইনের জন্য দেশের বাইরের একটা টিম আসে আমাদের আদাবরে অফিসে। আমাদের অফিস তখন ছিল একটা বিল্ডিং এর ছয় তলায় এবং সেই বিল্ডিং এ লিফট ছিল না। বিদেশি টিম মেম্বাররা বেশ বয়স্ক ছিলেন। তাঁদের ভিজিটের পর আমরা আসলে ভীষণ লজ্জা পেয়েছিলাম। ফলাফল: দ্রুত আমরা বনানীতে একটা চমৎকার লোকেশনে শিফট করি। সেই হসপিটালের কাজ আমরা না পেলেও পরবর্তীতে ঐ টিমের সাথে আমরা অন্য অনেকগুলো কাজ করেছি। 

২০১৭ থেকে ২০২০ পর্যন্ত তিন বছরে আমরা বুঝতে পারি ডিজাইনের পাশাপাশি কন্সট্রাকশনেও আমাদের মনোযোগ দেয়া দরকার। ইতোমধ্যেই আমরা কোথাও পাইলিং এর কাজ করেছি, কোথাও রেনোভেশান, কোথাও বা কনট্রাক্টর হিসেবে কাজ করেছি। আমাদের এত যত্ন নিয়ে করা ডিজাইন শুধু সুপারভিশন এবং কোয়ালিটি কন্ট্রোলের অভাবে বারবার নষ্ট হচ্ছিল। 

এখন আমাদের মেইন টার্গেট হল ডিজাইন অনুযায়ী কন্সট্রাকশন নিশ্চিত করা। আর সেটা নিশ্চিত করার জন্য আমরা তৈরি করেছি বিভিন্ন এংগেজমেন্ট প্ল্যান এবং প্রাইসিং অপশন। আপনার মূল্যবান কন্সট্রাকশনের জন্য

 

👉🏽 বাজেট

👉🏽 কোয়ালিটি

👉🏽 টাইমফ্রেম

 

এই তিনটি জিনিস ম্যানেজ করার ইচ্ছে নিয়েই আমাদের এই পথচলা। 

আমরা যেভাবে কাজ করি 

আমরা কাজগুলো তিনটি ধাপে করে থাকি 

প্রথম ধাপঃ
প্রথমিক আলোচনা এবং কি কি ধরণের কাজ আমরা করবো সেটা ঠিক করা । এটা সাধারণত প্রথম দুটো মিটিং এর মাধ্যমে ঠিক করা হয়। কাজটি কোথায় হবে, আপনার কি কি প্রয়োজন সেটি আমাদের জানাবেন এবং আমাদের কাছ থেকে আপনার কোন কোন সার্ভিসগুলো লাগবে তা বলবেন। এর উপরে ভিত্তি করে আমরা প্রাথমিক খরচ এবং সার্ভিস চার্জ জানিয়ে দিব। যদি মনেহয় একসাথে কাজ করা সম্ভব তাহলে আমরা পরবর্তী ধাপের দিকে এগিয়ে যাবো 

দ্বিতীয় ধাপঃ  
আগ্রিমেন্টের মাধ্যমে কাজ শুরু করা। প্রথমেই আমরা একটি আগ্রিমেন্ট করে নেই শুধুমাত্র কনসাল্টেন্সি বিষয়ক কাজগুলোর উপর ভিত্তি করে। ডিজাইন এবং ড্রইং রিলেটেড কাজগুলো হয়ে যাওয়ার পরে আমরা এর পরবর্তী ধাপের দিকে এগিয়ে যাবো 

তৃতীয় ধাপঃ 
কন্সট্রাকশন বা এক্সিকিউশান । এবার সর্বশেষ ধাপ যেখানে আপনার কাজটাকে ডিজাইন অনুযায়ী তৈরী করে দেয়া হয়। এই ধাপে আমরা ডিজাইন কনসাল্টেন্ট, বা কন্ট্র্যাক্টর অথবা প্রজেক্ট ম্যানেজার, বিভিন্নভাবে যুক্ত থাকতে পারি। তৈরী হয়ে গেলে প্রজেক্ট ক্লোজিং এর মাধ্যমে তৃতীয় ধাপটি শেষ হয়।